কেস স্টাডি

কনজ্যুমার ইলেকট্রনিক্স

প্রশিক্ষণার্থীর নাম: আলি আজিম

কোর্স/ট্রেডের নাম: কনজুমার ইলেকট্রনিক্স

রেজিস্ট্রেশন নম্বর: ২৫০০০৩৪৩৫৯ (ধাপ-৩ ব্যাচ-২)

প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের নাম: নুসা মাল্টিডাইমেনশনাল ট্রেনিং কমপ্লেক্স

প্রশিক্ষণের মেয়াদকাল: ৩ (তিন) মাস

অর্গানাইজেশন/এসোসিয়েশন: নুসা

প্রশিক্ষণার্থীর ছবি:
স্বল্প বর্ণনামূলক তথ্য:
প্রশিক্ষণগ্রহনের পূর্বে প্রশিক্ষণার্থীর সামাজিক ও আর্থিক অবস্থান

মুন্সীগঞ্জ জেলার শ্রীনগর উপজেলার আলমপুর গ্রামের একজন দরিদ্র কৃষক পিতা: সেলিম আহম্মেদ সাগরের ছেলে আলি আজিম। তিন ভাই দুই বোনের মধ্যে আলি আজিমের অবস্থান চার নাম্বার সে একজন খুবই গরিব পরিবারের সন্তান, তার বাবা একজন দরিদ্র কৃষক, মা পেশায় গৃহিনী। তার বাবা মানুষের জমি বর্গা নিয়ে কৃষি কাজ করে যা আয়করেন তাতে কোন রকমে তাদেও সংসারচলে। অভাব-অনটনের সংসারে তার বাবা, তাদের সংসার চালাতে হিম সিম খেয়ে যান। আর্থিক সমস্যার জন্য বেশি পড়া-লেখা করা তার পক্ষে সম্ভব হয়নি। দক্ষতা ও কাজের অভিজ্ঞতা না থাকার কারনে কোন কাজ করা সম্ভব হয় নি তার পক্ষে। ফলে ধীরে ধীরে সে এক বেকার যুবকে এ পরিণত হয়। এতে সে হতাসার সাগরে ডুবে যায়। একদিন নুসা মাল্টিডাইমেনশনাল ট্রেনিং কমপ্লেক্স (নুসা) মুন্সীগঞ্জ জেলার মাঠ কর্মী মাধ্যমে পিকেএসএফ’র এর ট্রেনিং এর ব্যাপাওে জানতে পারে, SEIP-PKSF কর্তৃক পরিচালিত, এডিবি এবং অর্থমন্ত্রনালয়ের সহায়তায় অসহায় ও বেকারযুবক/যুবমহিলাদের আবাসিক কারিগরি প্রশিক্ষণ এর ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভর্তির জন্য সে নুসা মাল্টিডাইমেনশনাল ট্রেনিং কমপ্লেক্স (নুসা) তে আবেদন করে এবং “কনজুমার ইলেকট্রনিক্স” (তিন মাস) ট্রেডে ভর্তিও সুযোগপায়। কোর্সে ভর্তিও পরে সে আন্তরিক তার সাথে তিন মাস প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে।

প্রশিক্ষণগ্রহনের পর প্রশিক্ষণার্থীর সামাজিক ও আর্থিক অবস্থান

কারিগরি শিক্ষা গ্রহণ করি, দক্ষ হাতে দেশ গড়ি। এই স্লোগান শোনার পর বেকারত্ব থেকে মুক্তি পাওয়ার এবং টেকসই মানউন্নয়নের জন্য নুসা মাল্টিডাইমেনশনাল ট্রেনিং কমপ্লেক্স (নুসা) নড়িয়া, শরীয়তপুর হতে, “কনজুমার ইলেকট্রনিক্স” ট্রেডে কারিগরি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে। SEIP-PKSF কর্তৃক পরিচালিত, এডিবি এবং অর্থমন্ত্রনালয়ের সহায়তায় নুসা মাল্টিডাইমেনশনাল ট্রেনিং কমপ্লেক্স (নুসা) হতে বেকার যুবকদের আবাসিক তিন মাস মেয়াদী, কোর্সে কারিগরি শিক্ষা প্রদান করা হয় এবং প্রশিক্ষণ শেষে সনদ প্রদান এবং চাকুরীর ব্যবস্থা করা হয়। নুসা মাল্টিডাইমেনশনাল ট্রেনিং কমপ্লেক্স (নুসা), নড়িয়া, শরীয়তপুর হতে প্রশিক্ষণ গ্রহণের ফলে বেকার থেকে আজ সে ওয়ার্কার হিসেবে “আজিম ইলেকট্রনিক্স” শেখর নগর শ্রীনগর, মুন্সীগঞ্জ,কর্মরত আছে। প্রশিক্ষণ শেষে নুসা সংস্থার জব-প্লেসমেন্ট অফিসারের সহায়তায়, জেনারেল ওয়ার্কার হিসেবে “আজিম কনজ্যুমার ইলেকট্রনিক্স”, শেখর নগর শ্রীনগর, মুন্সীগঞ্জ,দক্ষতার সাথে কাজ করছে। ধারাবাহিক ভাবে কাজ করায় তার কাজের দক্ষতাবৃদ্ধি পায়। সেখানে তার মাসিক বেতন হল ১৫০০০/- (পনের হাজার) টাকা। যা দিয়ে সে তার নিজের পরিবার ও বাবাকে আর্থিক ভাবে সহযোগিতা করতে পারছে। তার এলাকার আশে-পাশের মানুষ গুলো তার এই সাফল্যেও আনন্দ প্রকাশ করছে। সে আশা করে ভবিষ্যৎ দক্ষতায় জীবনে আরো অনেক উন্নতি সাধন করতে পারবে। এখন আমি ও আমার পরিবার অনেক ভাল আছি। ধন্যবাদ জানাই বাংলাদেশ সরকারের এই উদ্যোগকে এবং SEIP-PKSF কর্তৃক পরিচালিত নুসা মাল্টিডাইমেনশনাল ট্রেনিং কমপ্লেক্স (নুসা) কে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।

প্রশিক্ষণার্থীর নাম: বিরবল বোনার্জী

কোর্স/ট্রেডের নাম: কনজুমার ইলেকট্রনিক্স

রেজিস্ট্রেশন নম্বর: ২৫০০০৩২৮৪৯ (ধাপ-৩ ব্যাচ-২)

প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের নাম: নুসা মাল্টিডাইমেনশনাল ট্রেনিং কমপ্লেক্স

প্রশিক্ষণের মেয়াদকাল: ৩ (তিন) মাস

অর্গানাইজেশন/এসোসিয়েশন: নুসা

প্রশিক্ষণার্থীর ছবি:

স্বল্প বর্ণনামূলক তথ্য:

প্রশিক্ষণগ্রহনের পূর্বে প্রশিক্ষণার্থীর সামাজিক ও আর্থিক অবস্থান

বাংলাদেশের অন্যতম চা রপ্তানীকারক জেলা সিলেটের মৌলভীবাজার সেই মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার পাথারিয়া চা বাগান এলাকার দক্ষিনবাগ গ্রামের বনমালি বোনার্জীর ছেলে বিরবল বোনার্জী, চার ভাই এক বোনের মধ্যে বিরবল বোনার্জী সবার ছোট। দরিদ্রের কষাঘাতে কোন রকম খেয়ে না খেয়ে জীবন কাটে এমনই এক দরিদ্র পরিবারের সন্তান বীরবল। তার বাবা মা দুজনই পাথারিয়া চা বাগানের চা শ্রমিক। দুজনে মাসে যা সামান্য বেতন পায় তাতে করে তাদের সংসার চালানো ও ছেলে-মেয়েদের ভরনপোষন করানো খুব কষ্ট হয়ে যায়। অভাবের সাথে প্রতিনিয়ত যুদ্ধকরে লেখাপড়া শিখে এসএসসি পাশ করেছে বীরবল। এরপর আর পড়ালেখার সুযোগ হয়নি তার সে বেকার হয়ে ঘুরে বেড়ায় এবং কাজের সন্ধান করে কিন্তু দক্ষতা না থাকায় তেমন কোন কাজও করতে পারে না। আস্তে আস্তে সে পরিবারের বোঝা হয়ে ওঠে এবং হাতাশা তাকে গ্রাস করে। এমতাবস্থায় সে জানতে পারে তার এলাকার পাশে ৭নং খাসিয়াপুঞ্জির খ্রীষ্টান মিশনারীতে পিকেএসএফ এর সহযোগিতায় নুসা নামক একটি প্রতিষ্ঠান উপযুক্ত প্রশিক্ষণার্থী নির্বাচনের লক্ষে কমিউনিটি মবিলাইজেশন মিটিং করবে বীরবল সেই মিটিংয়ে অংশগ্রহণ করে এবং সব কিছু শুনে বুঝে লিফলেট দেখে সে সিদ্ধান্ত নেয় নুসা মাল্টিডাইমেনশনাল ট্রেনিং সেন্টার থেকে সে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করবে তারপর তার বাবা মায়ের কাছে থেকে অনুমতি নিয়ে নুসা’র কর্মকর্তাদের সাথে সে শরীয়তপুর নড়িয়া’তে আসে এভাবে শুরু করে তার জার্নি। এরপর এখানকার পরিবেশ, ষ্টাফদের আন্তরিকতা থাকা খাওয়ার সুব্যবস্থা বীরবলকে খুব আকৃষ্ট করে সে তিন মাস অত্যান্ত আন্তরিকাতা ও ধৈর্য ধারণের মাধ্যমে ‘‘কনজ্যুমার ইলেকট্রনিক্স’’ এর কাজটা আয়ত্ব করতে থাকে এই সেন্টারে থাকা অবস্থায়। নুসা কর্তৃপক্ষ ও তার সহপাঠি বন্ধুরা মিলে ধুমধাম করে তার জন্মদিন পালন করে এতে করে পাহাড়ি অঞ্চলের চা বাগানের ছেলে বীরবল খুশিতে আবেগ আপ্লুত হয়ে সকলকে অনেক প্রশংসা করে। এভাবে তিন মাস আনন্দঘন পরিবেশে কাজটি ভালোভাবে শিখে দক্ষতা অর্জন করে সনদপত্র গ্রহণ করে।

প্রশিক্ষণগ্রহনের পর প্রশিক্ষণার্থীর সামাজিক ও আর্থিক অবস্থান

এরপর বীরবল ফিরে যায় তার নিজ এলাকা মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার পাথারিয়া চা বাগানে এবং বাবা মায়ের সহযোগিতায় কিছু যন্ত্রপাতি ক্রয় করে প্রশিক্ষণ লব্দ অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে শুরু করে বীরবল তার জীবন যুদ্ধ সে চা বাগান এলাকায় নিয়মিতভাবে ‘‘কনজ্যুমার ইলেকট্রনিক্স’’ এর কাজ করতে থাকে এবং ধীরে ধীরে তার পরিচয় ও কাজের সুনাম বৃদ্ধি পেতে থাকে এভাবেই এলাকায় সে দক্ষ টেকনিশিয়ান হয়ে ওঠে এখন প্রতিদিন কাজ করে মাসে গড়ে ১০-১২ (দশ থেকে বার হাজার) টাকা আয় করে। এখন সে তার পরিবার ও ভাইবোনদের নিয়ে তিন বেলা খেয়ে পরে সুখে শান্তিতে দিন কাটাচ্ছে এবং পাশাপাশি কিছু টাকা সঞ্চয় ও করছে।

ফ্যাশন গার্মেন্টস

প্রশিক্ষণার্থীর নাম: খাদিজা আক্তার আঁখি

কোর্স/ট্রেডের নাম: ফ্যাশন গার্মেন্টস

রেজিস্ট্রেশন নম্বর: ২৫০০০৩০৬২৬ (ধাপ-৩, ব্যাচ-২)

প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের নাম: নুসা মাল্টিডাইমেনশনাল ট্রেনিং কমপ্লেক্স

প্রশিক্ষণের মেয়াদকাল: ৩ (তিন) মাস

অর্গানাইজেশন/এসোসিয়েশন: নুসা

প্রশিক্ষণার্থীর ছবি:

স্বল্প বর্ণনামূলক তথ্য:

প্রশিক্ষণগ্রহনের পূর্বে প্রশিক্ষণার্থীর সামাজিক ও আর্থিক অবস্থান

শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলার মাদবারকন্দি গ্রামের আবুল হোসেন এর মেয়ে খাদিজা আক্তার আঁখি এক বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে খাদিজা আক্তার আঁখি সবার বড়, সে একজন দরিদ্র পরিবারের সন্তান, তার বাবা একজন দিনমজুর, মা পেশায় গৃহিনী। বাবা মানুষের থেকে গাভী বর্গা নিয়ে গাভী পালন করে। অভাব-অনটনের সংসারে তার বাবা যা আয় করেন তাতে কোন রকমে তাদের সংসার চলতো।তার বাবা তাদের তিন ভাই-বোন কে চালাতে গিয়ে হিমশিম খেয়ে যান। আর্থিক সমস্যার মধ্যেও খাদিজা তার অদম্য স্পৃহার ফলে এইচএসসি পাশ করে। ইতি মধ্যে তার বাবা তাকে মালএশিয়া প্রবাশি এক ছেলের সাথে মোবাইলের মাধ্যমে বিবাহ দিয়ে দেন। কিন্তু খাদিজার বেশিরভাগ সময় কাটে বাড়ীতে শুয়ে বসে আর হতাশার মধ্য দিয়ে এভাবে দিনের পার দিন যায় খাদিজার মনের অবস্থা খুব খারাপ হতে থাকে এমতাবস্থায় সে কোন কাজের সন্ধান করতে থাকে কিন্তু দক্ষতা অভিজ্ঞতা না থাকার কারনে কোন কাজ করা সম্ভব হয়নি তার পক্ষে। তার মা (নুসা)’র একজন ঋণী সদস্য সে সমিতিতে সাপ্তাহিক কিস্তি দিতে যেয়ে নুসা’র মাঠকর্মীর মাধ্যমে জানতে পারে যে নুসা মাল্টিডাইমেনশনাল ট্রেনিং কমপ্লেক্সে বেকার ছেলেমেয়েদের তিন মাস মেয়াদী বিভিন্ন কোর্সে মনোরম পরিবেশে থাকা খাওয়ার সু ব্যবস্থা ও দক্ষ প্রশিক্ষকের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়ে থাকে। তারপর সে নুসা ট্রেনিং সেন্টারে ভর্তির জন্য যোগাযোগ করে এবং নুসা মাল্টিডাইমেনশনাল ট্রেনিং কমপ্লেক্স (নুসা) তে “ফ্যাশন গার্মেন্টস” ট্রেডে ভর্তির সুযোগ পায়। কোর্সে ভর্তির পরে সে খুবই মনোযোগ সহকারে কাজ শেখে এবং আস্তে আস্তে তার আত্মবিশ্বাস বাড়তে থাকে প্রশিক্ষণরত অবস্থায় সে বিভিন্ন ডিজাইনের পোশাক তৈরী করা শুরু করে এরং কিছুটা মানসিক প্রশান্তি অনুভব করে ও সফলতার সাথে প্রশিক্ষণ শেষ করে।

প্রশিক্ষণগ্রহনের পর প্রশিক্ষণার্থীর সামাজিক ও আর্থিক অবস্থান

কারিগরি শিক্ষার অন্যতম মূলমন্ত্র কারিগরি শিক্ষা গ্রহণ করি, দক্ষ হাতে দেশ গড়ি। এই স্লোগান শোনার পর, বেকারত্ব থেকে মুক্তি এবং টেকসই মান উন্নয়নের জন্য নুসা মাল্টিডাইমেনশনাল ট্রেনিং কমপ্লেক্স (নুসা),নড়িয়া, শরীয়তপুর হতে, “ফ্যাশন গার্মেন্টস ” ট্রেডে কারিগরি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে। PKSF-SEIP কর্তৃক পরিচালিত, এডিবি এবং অর্থমন্ত্রনালয়ের সহায়তায় নুসা মাল্টিডাইমেনশনাল ট্রেনিং কমপ্লেক্স (নুসা) হতে বেকার যুবকদের আবাসিক তিন মাস মেয়াদী, বেসিক কোর্সে কারিগরি শিক্ষা প্রদান করা হয় এবং প্রশিক্ষণ শেষে সার্টিফিকেট প্রদান এবং ট্রেড অনুযায়ী চাকুরীর ব্যবস্থা করা হয়। নুসা মাল্টিডাইমেনশনাল ট্রেনিং কমপ্লেক্স (নুসা), নড়িয়া, শরীয়তপুর হতে প্রশিক্ষণ গ্রহণের পরে তার নিজের বাড়িতে সেলাই মেশিন কিনে কাজ শুরু করে ধীরে ধীরে এলাকায় তার পরিচিতি বাড়তে থাকে এবং কাজের মান ও বৃদ্ধিপেতে থাকে সাথে তার আয়ও বৃদ্ধি পায় বর্তমানে সে একজন স্বাবলম্বী নারী। এখন সমাজে তার গ্রহণ যোগ্যতা আছে সে মাসিক গড়ে ১২০০০/- (বার হাজার) টাকা আয় করে। যা দিয়ে সে তার নিজের ও পরিবারের সদস্যদের, বিশেষ করে তার বাবাকে আর্থিক ভাবে সহযোগিতা করতে পারে ও ভাইবোনদের লেখাপড়ার খরচ যোগাতে পারে। এটা দেখে তার এলাকার আশে-পাশের মানুষ গুলো তার এই সাফল্যের আনন্দ প্রকাশ করেছে। সে আশা করে ভবিষ্যৎ এই কাজ করে তাদের এলাকার বাজারে মিনি গার্মেন্টস তৈরী করবে। খাদিজার ভাষ্যমতে এখন আমি আমার পরিবার নিয়ে অনেক ভাল আছি। পরিশেষে ধন্যবাদ জানাই বাংলাদেশ সরকারের এই উদ্যোগকে আরো ধন্যবাদ জানাই PKSF I NUSA কর্তৃপক্ষকে।

প্রশিক্ষণার্থীর নাম: রিতু আক্তার

কোর্স/ট্রেডের নাম: ফ্যাশন গার্মেন্টস

রেজিস্ট্রেশন নম্বর: ২৫০০০২৮৯৬৬ ( ধাপ-৩ব্যাচ-১)

প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের নাম: নুসা মাল্টিডাইমেনশনাল ট্রেনিং কমপ্লেক্স

প্রশিক্ষণের মেয়াদকাল: ৩ (তিন) মাস

অর্গানাইজেশন/এসোসিয়েশন: নুসা

প্রশিক্ষণার্থীর ছবি:

স্বল্প বর্ণনামূলক তথ্য:

প্রশিক্ষণগ্রহনের পূর্বে প্রশিক্ষণার্থীর সামাজিক ও আর্থিক অবস্থান

শরীয়তপুর জেলার ডামুড্যা উপজেলার আদাশন গ্রামের দিনমজুর আজহার সরদারের মেয়ে রিতু আক্তার তিন ভাই দুই বোনের মধ্যে রিতুর অবস্থান চার নাম্বার, ১৮ বছর বয়সে ডামুড্যা উপজেলাতেই বিয়ে হয় রিতুর কিন্তু ভাগ্য সহায় হয়নি বেশি দিন। বিয়ের মাত্র সাড়ে তিন বছর ঘর সংসার করার পরে স্বামির অত্যাচারে সংসার ছাড়তে হয় রিতুর ইতোমধ্যে তাদের একটি কন্যা সন্তান জন্ম নেয়। এমতাবস্থায় বাবার বাড়ীতে অসহায় অবস্থায় দিনাতিপাত করতে হয় রিতুকে। কখনো খেয়ে না খেয়ে দিনকাটে তাদের। কোন উপায় খুঁজে পায় না রিতু। মাঝে মধ্যে চিন্তায় বিভোর থাকতো মনে হতো যেন অসংখ্য লাল নীল বল ড্রপ খাচ্ছে তার চোখের সামনে হঠাৎ একদিন নুসা’র মডেরহাট শাখার মাঠ কর্মীর মাধ্যমে সে জানতে পারে মেয়েদের জন্য নুসা’তে SEIP প্রকল্পের আওতায় ৩ মাস মেয়াদি দক্ষতামূলক ‘‘ফ্যাশন গার্মেন্টস’’ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় এবং প্রশিক্ষণ শেষে আন্তর্জাতিক মানের সনদপত্র প্রদান করা হয়। এছাড়াও যারা চাকুরী করতে ইচ্ছুক তাদেরকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকুরী প্রদানে সহায়তা প্রদান করা হয়। যারা স্ব কর্ম সংস্থানে ইচ্ছুক তাদেরকে নুসা হতে ঋণ সহায়তা দেওয়া হয়। এ কথা শুনে রিতু তার ভাইকে সাথে নিয়ে নুসা মাল্টিডাইমেনশনাল ট্রেনিং সেন্টার নড়িয়াতে আসে এবং বিস্তারিত খোজ খরব নেওয়ার পরে ৩০.১২.২০২১ইং তারিখে ‘‘ফ্যাশন গার্মেন্টস’’ কোর্সে ভর্তি হয়। সে আন্তরিকতার সাথে তিন মাস প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে, প্রশিক্ষণ চলাকালীন সময়ে সে প্রতিযোগিতামূলক আধুনিক মানের বিভিন্ন পোশাক তৈরী করা শুরু করে এতে করে তার আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায়। প্রশিক্ষণকালীন সময়ে এখানকার মনোরম পরিবেশ ষ্টাফ ও ট্রেইনারদের আন্তরিকতা সবকিছু রিতুকে মুগ্ধ করে। যার কারণে সে টেনশনমুক্ত সময় পার করে ও সফলতার সাথে প্রশিক্ষণ শেষ করে।

প্রশিক্ষণগ্রহনের পর প্রশিক্ষণার্থীর সামাজিক ও আর্থিক অবস্থান

প্রশিক্ষণ শেষে রিতু বাবার বাড়ীতে ফিরে যায় এবং রিতু তার বাবার মাধ্যমে নুসা মঠেরহাট শাখা থেকে ত্রিশ হাজার টাকা ঋণ নেয় উক্ত টাকা দিয়ে সেলাইমেশিন ও ঢাকা ইসলামপুর মার্কেট থেকে তার বাবাকে সাথে করে কাপড় ক্রয় করে এবং নিয়মিত কাজের অর্ডার পেতে থাকে উল্লেখ্য রিতু এখন শুধু পোশাক তৈরী করেনা সাথে মেয়েদের জন্য ব্যবহৃত বিভিন্ন পোশাক কিনে এনে বিক্রি করে এতে করে দিন দিন তার পরিচিতি বাড়তে থাকে এবং কাস্টমারের সংখ্যাও বাড়তে থাকে এখন তার মাসে বার থেকে পনের হাজার টাকা আয় হয় উক্ত আয় থেকে সপ্তায় সপ্তায় নিয়মিতভাবে কিস্তি পরিশোধ করে অবশিষ্ট টাকা দিয়ে তার মেয়ের ভরণপোষন ও ব্যবসা সম্প্রসারণ করেন। ভবিষ্যত স্বপ্ন ও পরিকল্পনা তার মেয়েকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করে ভালো মানুষ হিসাবে গড়ে তোলা ও মডেরহাট বাজারে দোকান নিয়ে মিনি গার্মেন্টস আকারে ব্যবসা করা এবং নিজেকে স্বনির্ভর করে গড়ে তোলা।

অটো মেকানিক্স

প্রশিক্ষণার্থীর নাম: সবুজ বাড়াইক

কোর্স/ট্রেডের নাম: অটো মেকানিক্স

রেজিস্ট্রেশন নম্বর: ২৫০০০২৬৫১৬ (ধাপ- ২ ব্যাচ-৩)

প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের নাম: নুসা মাল্টিডাইমেনশনাল ট্রেনিং কমপ্লেক্স

প্রশিক্ষণের মেয়াদকাল: ৩ (তিন) মাস

অর্গানাইজেশন/এসোসিয়েশন: নুসা

প্রশিক্ষণার্থীর ছবি:

স্বল্প বর্ণনামূলক তথ্য:

প্রশিক্ষণগ্রহনের পূর্বে প্রশিক্ষণার্থীর সামাজিক ও আর্থিক অবস্থান

মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার শমশেরনগর গ্রামের চা শ্রমিক পিতা কান্ত বাড়াইকের ছেলে সবুজ বাড়াইক দুই বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবুজ বাড়াইক দ্বিতীয়। সে একজন অভাবী পরিবারের সন্তান, তার বাবা একজন চা শ্রমিক মা গৃহিনি, মৌলভীবাজার চা বাগানে দিনমজুর হিসাবে কাজ করে তার বাবা যা আয় করেন তাতে কোন রকমে তাদের সংসার চলে। অভাব-অনটনের সংসারে তার বাবা, তাদের চার ভাই-বোনকে লালন পালন করাতে গিয়ে হিমসিম খেয়ে যান। একদিকে তার বোনেরা ধীরে ধীরে বড় হতে শুরু করছে সেই চিন্তায় তার রাতে ঘুম আসেনা কি ভাবে তার বোনদের বিয়ে দিবে কি ভাবে তার অভাবি সংসারের পাশে দাড়াবে কি ভাবে বাবা মায়ের কষ্টের ক্লান্তি দূর করবে। আর্থিক সমস্যার জন্য এসএসসি পাশের বেশি পড়া-লেখা করা তার পক্ষে সম্ভব হয়নি। ফলে ধীরে ধীরে সে এক বেকার যুবকে এ পরিণত হয়। এতে সে হতাসার সাগরে ডুবে যায় ও তার চারদিক অন্ধকারে ঢেকে যায। নড়িয়া উন্নয়ন সমিতি (নুসা) পিকেএসএফ এর সহযোগিতায় ঐ অঞ্চলে প্রশিক্ষণার্থী সংগ্রহের জন্য একটি কর্মশালা করে সেখান থেকে সবুজ বাড়াইক জানতে পারে ছেলেদের জন্য SEIP প্রকপ্লের আওতায় ৩ মাস মেয়াদি দক্ষতামূলক “অটো মেকানিক্স” প্রশিক্ষণ এর ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়াও যারা চাকুরী করতে ইচ্ছুক তাদেরকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকুরী প্রদানে সহায়তা প্রদান করা হয়। আর যারা স্ব-কর্ম সংস্থানে ইচ্ছুক তাদেরকে নুসা হতে প্রদান করা হয়। এ কথা শুনে সবুজ বারাইক ভর্তির জন্য সে নুসা মাল্টিডাইমেনশনাল ট্রেনিং কমপ্লেক্স (নুসা) তে আবেদন করে এবং “অটো মেকানিক্স” ট্রেডে ভর্তির সুযোগ পায়। কোর্সে ভর্তির পরে সে কিছুটা মানসিক প্রশান্তি অনুভব করে ও সফলতার সাথে প্রশিক্ষণ শেষ করে।

প্রশিক্ষণগ্রহনের পর প্রশিক্ষণার্থীর সামাজিক ও আর্থিক অবস্থান

অটো মেকানিক্স কোর্সের প্রশিক্ষণ শেষে নুসা’র জবপ্লেসমেন্ট কর্মকর্তার মাধ্যমে সে জানতে পারে তারই পাশের এলাকা সিলেটের হবিগঞ্জের ওলিপুরে আরএফএল ফ্যক্টরিতে কিছু সংখ্যাক ‘জুনিয়র মেশিন অপারেটর’ পদে লোক নেওয়া হবে নুসা’র জবপ্লেসমেন্ট কর্মকর্তার সহযোগিতায় সবুজ বাড়েইক সেখানে দরখাস্ত করে এবং চাকুরীর ইন্টারভিউ দেয় পরবর্তীতে তার ঐ ফ্যাক্টরীতে চাকুরী হয়ে যায়। শুরুতে তার বেতন নির্ধারণ করা হয়েছিলে ৮০০০/- (আট হাজার) টাকা আন্তরিকতার সাথে সে তার ডিউটি পালন করতে থাকে এবং আস্তে আস্তে তার কাজের মান বৃদ্ধি পেতে থাকে ফলে সেখানকার কর্মকর্তাদের নজরে আসে এখন সে ‘সিনিয়র মেশিন অপারেটর’ হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে ওভারটাইম সহ প্রতি মাসে ১২০০০/- (বার হাজার) টাকা বেতন পাচ্ছে তার বেতনের টাকা দিয়ে এখন তার বাব মা ভাইবোন সুখে শান্তিতে আছে এবং সংসারের স্বচ্ছলতা ফিরে আসছে।

সবুজ বাড়াইক বাংলাদেশের সরকারের এমন উদ্যোগকে ধন্যবাদ জানিয়েছে সেই সাথে পিকেএসএফ ও নুসা কর্তৃপক্ষকের কাছে ও তার পরিবার কৃতজ্ঞ।

ইলেকটিক্যাল ইনস্টলেশন এন্ড মেইনটেন্যান্স

প্রশিক্ষণার্থীর নাম: মোঃ রাকিব

কোর্স/ট্রেডের নাম: ইলেকটিক্যাল ইনস্টলেশন এন্ড মেইনটেন্যান্স

রেজিস্ট্রেশন নম্বর: ২৫০০০২১০৮১ (ধাপ-৩ ব্যাচ-৫)

প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের নাম: নুসা মাল্টিডাইমেনশনাল ট্রেনিং কমপ্লেক্স

প্রশিক্ষণের মেয়াদকাল: ৩ (তিন) মাস

অর্গানাইজেশন/এসোসিয়েশন: নুসা

প্রশিক্ষণার্থীর ছবি:

স্বল্প বর্ণনামূলক তথ্য:

প্রশিক্ষণগ্রহনের পূর্বে প্রশিক্ষণার্থীর সামাজিক ও আর্থিক অবস্থান

শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলার ইশ্বরকাটি, গ্রামের ভ্যান চালক রুহুল আমিনের ছেলে মোঃ রাকিব হোসেন দুই বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে মোঃ রাকিব হোসেন সবার ছোট, সে একজন খুবই গরিব পরিবারের সন্তান, তার বাবা স্থানীয় নড়িয়া বাজারের দেওয়ান বেকারির আওতায় কর্মরত একজন ভ্যান চালক, মা পেশায় গৃহিনী। সে তার বাবা-মায়ের চার সন্তানে’র মধ্যে তার অবস্থান ৪র্থ। তার বাবা দেওয়ান বেকারীর ভ্যানগাড়ি চালিয়ে যা আয় করেন তাতে কোন রকমে তাদের সংসার চলে। অভাব-অনটনের সংসারে তার বাবা, তাদের চার ভাই-বোন কে চালাতে হিম সিম খেয়ে যান। আর্থিক সমস্যার জন্য দশম শ্রেণী’র বেশি পড়া-লেখা করা তার পক্ষে সম্ভব হয়নি। দক্ষতা ও কাজের অভিজ্ঞতা না থাকার কারনে কোন কাজ যোগাড় করা সম্ভব হয়নি তার পক্ষে। ফলে ধীরে ধীরে সে এক বেকার যুবকে এ পরিণত হয়। এতে সে হতাসার সাগরে ডুবে যায়। একদিন নুসা মাল্টিডাইমেনশনাল ট্রেনিং কমপ্লেক্স (নুসা) থেকে মাইকিং ও লিফলেট বিতরণ এর মাধ্যমে সে জানতে পারে ছেলেদের জন্য SEIP প্রকপ্লের আওতায় ৩ মাস মেয়াদি দক্ষতামূলক “ইলেকটিক্যাল ইনস্টলেশন এন্ড মেইনটেন্যান্স” প্রশিক্ষণ এর ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভর্তির জন্য সে নুসা মাল্টিডাইমেনশনাল ট্রেনিং কমপ্লেক্স (নুসা) তে আবেদন করে এবং “ইলেকটিক্যাল ইনস্ট্রলেশন এন্ড মেইনটেন্যান্স” ট্রেডে ভর্তির সুযোগ পায়। কোর্সে ভর্তির পরে সে কিছুটা মানসিক প্রশান্তি অনুভব করে।

প্রশিক্ষণগ্রহনের পর প্রশিক্ষণার্থীর সামাজিক ও আর্থিক অবস্থান

কারিগরি শিক্ষা গ্রহণ করি, দক্ষ হাতে দেশ গড়ি, কারিগরি শিক্ষা নিলে দেশ বিদেশে কর্ম মিলে। এই স্লোগান শোনার পর, বেকারত্ব থেকে মুক্তি এবং টেকসই মান উন্নয়নের জন্য নুসা মাল্টিডাইমেনশনাল ট্রেনিং কমপ্লেক্স (নুসা),নড়িয়া, শরীয়তপুর হতে “ইলেকটিক্যাল ইনস্টলেশন এন্ড মেইনটেন্যান্স” ট্রেডে কারিগরি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে। SEIP-PKSF কর্তৃক পরিচালিত, এডিবি এবং অর্থমন্ত্রনালয়ের সহায়তায় নুসা মাল্টিডাইমেনশনাল ট্রেনিং কমপ্লেক্স (নুসা) হতে বেকার যুবকদের আবাসিক তিন মাস মেয়াদী, বেসিক কোর্সে কারিগরি শিক্ষা প্রদান করা হয় এবং প্রশিক্ষণ শেষে সার্টিফিকেট প্রদান এবং চাকুরীর ব্যবস্থা করা হয়। নুস মাল্টিডাইমেনশনাল ট্রেনিং কমপ্লেক্স (নুসা), নড়িয়া, শরীয়তপুর হতে প্রশিক্ষণ গ্রহণের ফলে “জব-প্লেসমেন্ট অফিসারের” মাধ্যমে বেকার থেকে আজ সে জেনারেল ওয়ার্কার হিসেবে “কনিকা ইলেকট্রনিক্স” নড়িয়া বাজার, শরীয়তপুর,কর্মরত আছে শুরুতে তার বেতন-ভাতা ছিলো মাত্র ৭০০০/-(সাত হাজার) টাকা।ধারাবাহিক ভাবে কাজ করায় তার কাজের দক্ষতাবৃদ্ধি পায়। এখন তার মাসিক বেতন ভাতা হল ১০০০০/- (দশ হাজার) টাকা। যা দিয়ে সে তার নিজের ও পরিবারের সদস্যদের, বিশেষ করে তার বাবাকে আর্থিক ভাবে সহযোগিতা করতে পারে। এটা দেখে তার এলাকার আশে-পাশের মানুষ গুলো তার এই সাফল্যের আনন্দ প্রকাশ করেছে। সে আশা করে ভবিষ্যৎ দক্ষতায় জীবনে আরো অনেক উন্নতি সাধন করতে পারবে। এখন আমি ও আমার পরিবার অনেক ভাল আছি। পরিশেষে ধন্যবাদ জানাই বাংলাদেশ সরকারের এই উদ্যোগকে আরো ধন্যবাদ জানাই SEIP-PKSF কর্তৃক পরিচালিত নুসা মাল্টিডাইমেনশনাল ট্রেনিং কমপ্লেক্স (নুসা) কে।

মোবাইল ফোন সার্ভিসিং

প্রশিক্ষণার্থীর নাম: রাশেদুল ইসলাম

কোর্স/ট্রেডের নাম: মোবাইল ফোন সার্ভিসিং

রেজিস্ট্রেশন নম্বর: ২৫০০০১৮৭৭৪ (ধাপ- ব্যাচ-৪)

প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের নাম: নুসা মাল্টিডাইমেনশনাল ট্রেনিং কমপ্লেক্স

প্রশিক্ষণের মেয়াদকাল: ৩ (তিন) মাস

অর্গানাইজেশন/এসোসিয়েশন: নুসা

প্রশিক্ষণার্থীর ছবি:

স্বল্প বর্ণনামূলক তথ্য:

প্রশিক্ষণগ্রহনের পূর্বে প্রশিক্ষণার্থীর সামাজিক ও আর্থিক অবস্থান

মাদারীপুর জেলার কালকিনি উপজেলার শিকারমঙ্গল গ্রামের সামান্য চায়ের দোকানদার সামসুল মোল্লার ছেলে রাশিদুল ইসলাম চার বোন এক ভাইয়ের মধ্যে রাশিদুল ইসলাম তৃতীয়। সে একজন খুবই দরিদ্র পরিবারের সন্তান তার মা বিগত ৫ বছর ধরে ক্যানসারে আক্রান্ত রোগী। রাশেদুল জন্মের পরে স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠলেও ধীরে ধীরে এমন এক রোগ তার শরিরে বাসা বাধা যে সে আর স্বাভাবিক মানুষের মত করে হাটাচলা করতে পারেনা তার একটা পা প্রায় অকেজো হয়ে পড়ে এবং দীর্ঘদিন চিকিৎসার পরে ও ভালো হয়না।তার বাবা সামান্য চায়ের দোকানদার এই কাজ করে যা আয় করেন তাতে কোন রকমে তাদের সংসার চলে না। অভাব-অনটনের সংসারে তার বাবা, তাদের পাঁচ ভাই-বোনকে লেখাপড়া করাতে ও সংসার চালাতে হিমসিম খেয়ে যান। এর মধ্য দিয়েও রাশেদুল টিউশনি করে মাদ্রাসার লাইন থেকে আলিম পাশ করে এরপর আর পড়াশুনা করতে পারেনি। পায়ে সমস্যার কারণে সে অন্যকোন কাজও করতে পারেনা দীর্ঘদিন সে বেকার জীবন যাপন করতে থাকে একদিন সে নুসা কালকিনি শাখার মাঠ কর্মীর মাধ্যমে জানতে পারে ছেলেদের জন্য SEIP প্রকপ্লের আওতায় ৩ মাস মেয়াদি দক্ষতামূলক “মোবাইল ফোন র্সাভিসিং” প্রশিক্ষণ এর ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়াও যারা চাকুরী করতে ইচ্ছুক তাদেরকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকুরী প্রদানে সহায়তা প্রদান করা হয়। আর যারা স্ব-কর্ম সংস্থানে ইচ্ছুক তাদেরকে নুসা হতে ঋণ প্রদান করা হয়। এ কথা শুনে রাশিদুল ইসলাম ভর্তির জন্য সে নুসা মাল্টিডাইমেনশনাল ট্রেনিং কমপ্লেক্স (নুসা) তে আবেদন করে এবং “মোবাইল ফোন সার্ভিসিং” ট্রেডে ভর্তির সুযোগ পায়। কোর্সে ভর্তির পরে সে আন্তরিকতা ও মনোযোগের সাথে মোবাইল ফোনের কাজটি আয়ত্ব করতে থাকে এবং সফলতার সাথে ৩মাস মেয়াদী প্রশিক্ষণ শেষ করে।

প্রশিক্ষণগ্রহনের পর প্রশিক্ষণার্থীর সামাজিক ও আর্থিক অবস্থান

এরপর রাশেদুল তার এলাকায় ফিরে যায় এবং তার বাবার সহযোগিতায় নুসা কালকিনি শাখা থেকে ৩০,০০০ (ত্রিশ হাজার) টাকা ঋণ গ্রহণ করে এবং সেই টাকা কিছু মালামাল ক্রয় করে এবং তার বাবার চায়ের দোকানের সাথে ছোট করে একটি দোকান ভাড়া নিয়ে মোবাইল সার্ভিসিংয়ের কাজ শুরু করে আস্তে আস্তে এলাকায় তার পরিচিতি বাড়ে এবং ব্যাবসা ভালো চলতে থাকে তার আয়ের টাকা দিয়ে রাশেদুল সংসার চালায় ও মায়ের চিকিৎসা করায় এবং নুসা’র কিস্তি শোধ করতে থাকে এভাবে ব্যবসা করে এক সময় নুসা’র কিস্তি পরিশোধ করে। পরবর্তীতে সে আবার নুসা’র কালকিনি শাখা থেকে ৫০.০০০/- (পঞ্চাশ হাজার) টাক ঋণ নিয়ে মোবাইল সার্ভিসিংয়ের কাজের পাশাপাশি এলাকার চাহিদার ভিত্তিতে সে ষ্টুডিওর কাজ ও শুরু করে এবং দোকান বড় করে এখন তার ব্যবসা ভালোভাবে চালিয়ে বিয়েসাদি করে ও সংসারের দায়িত্ব কাধে তুলে নেয়। প্রতিমাসে গড়ে সে এখন ২০,০০০/- (বিশ হাজার) টাকার মত আয় করছে এবং পরিবারের সকলকে নিয়ে রাশেদুল এখন ভালোভাবে জীবনযাপন করছে।

রাশেদুল স্বপ্ন দেখে সে একজন বড় ব্যবসী হয়ে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হবে।

প্রশিক্ষণার্থীর নাম: নুর হোসেন

কোর্স/ট্রেডের নাম: মোবাইল ফোন সার্ভিসিং

রেজিস্ট্রেশন নম্বর: ২৫০০০২৯৬৮৮ ( ধাপ-৩ ব্যাচ-২)

প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের নাম: নুসা মাল্টিডাইমেনশনাল ট্রেনিং কমপ্লেক্স

প্রশিক্ষণের মেয়াদকাল: ৩ (তিন) মাস

অর্গানাইজেশন/এসোসিয়েশন: নুসা

প্রশিক্ষণার্থীর ছবি:

স্বল্প বর্ণনামূলক তথ্য:

প্রশিক্ষণগ্রহনের পূর্বে প্রশিক্ষণার্থীর সামাজিক ও আর্থিক অবস্থান

শরীয়তপুর জেলার আঙ্গারীয়া উপজেলার সিংগারিয়া গ্রামের আব্দুল রহিম মোল্লার ও নাছিমা বেগম এর ছেলে নূর হোসেন। পাঁচ ভাই বোনের মধ্যে নূর হোসেন দ্বিতীয়। পড়ালেখায় সে বেশি মনোযোগি ছিল না মাদ্রাসায় অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছে নূর হোসেন। সে বেকার ছিল। পরিবারের কাছে সে বোঝা হিসাবে পরিগনিত ছিল। সামাজিক ও স্থানীয় কাজে কোন অংশগ্রহণ ছিল না। পাড়ার এক বড় ভাইকে কাজে সামান্য সহযোগিতা করত।গ্রাম্য বাজার গ্রীষ্মের দুপুর প্রচন্ড তাপদাহ। বাজারের মাঝমাঝি একটি দোকান। অন্যান্য দোকানে লোকজনের ভীড় না থাকলেও এ দোকানে কয়েক জন লোক দেখা গেল। সেদিকে এগিয়ে দেখা গেল আবরি মোবাইল ফোন সার্ভিসিং নামে একটি দোকান। সেখানে পানজাবী গায়ে খরিদ্দারদের সাথে কথা বলছে ও তাদের চাহিদা মোতাবেক মোবাইল ফোন সার্ভিসিং সামগ্রী বিক্রয় করছে ২০ বছরের এক তরুণ। আলাপ করে জানা গেল তার নাম নুর হোসেন এক বছর আগেও তাদের দোকানের এ রকম অবস্থা ছিল না। বছর চাদুই আগে মোবাইল ফোন সার্ভিসিং ও ব্যবসা শুরু করেন নুর হোসেন বড় ভাই আবির হোসেন। সে দোকেনে নুর হোসেন কে কাজে লাগায় তার ভাই। কাজ না জানা নুর হোসেন কোন রকমে তার ভাই আবির হোসেন সহায়তা করতে থাকে। ব্যবসায় তেমন সফলতা আসতে ছিল না। একদিন তার বড় ভাই নুসার আঙ্গারীয়া শাখার মাঠকর্মী মাধ্যমে জানতে পারেন পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন এর আর্থিক সহযোগিতায়, নুসা মাল্টি ডাইমেনশলাল প্রশিক্ষণ সেন্টারের মাধ্যমে Skills for Employment Investment Program (SEIP) প্রকল্পের আওতায় বেকার যুর ও যুব মহিলাদের বিনা খরচে বিভিন্ন ধরনের কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত বিষয়ে বিস্তারিত জানার জন্য সে নুসা নড়িয়া শাখায় যোগাযোগ করে। সেখান থেকে বিস্তারিত জেনে বেকার জীবনের অবসান ঘটানোর লক্ষ্যে নুর হোসেন তিন মাস মেয়াদি মোবাইল ফোন সার্ভিসিং প্রশিক্ষণ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়। নুসা মাল্টি ডাইমেনশলাল প্রশিক্ষণ সেন্টার এর তিন মাস মেয়াদি মোবাইল ফোন সার্ভিসিং প্রশিক্ষণে ভর্তি হয়ে কঠিন পরিশ্রমের মাধ্যমে সফলতার সাথে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সমাপ্ত করে।

প্রশিক্ষণগ্রহনের পর প্রশিক্ষণার্থীর সামাজিক ও আর্থিক অবস্থান

প্রশিক্ষণকালীন সময়ে কারিগরি শিক্ষার পাশাপাশি ব্যবসা সংক্রান্ত আলোচনায় সে ব্যবসার দুর্বলদিকসমূহ চিহ্নিত করে সঠিক ভাবে ব্যবসা পরিচালনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। প্রশিক্ষণ হতে নুর হোসেন মোবাইল ফোন সার্ভিসিং কাজ দক্ষতার সাথে সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়। প্রশিক্ষণ শেষে বাড়ী ফিরে গিয়ে বাবা ও বড় ভাইয়ের সহযোগিতায় ৫০,০০০/-(পঞ্চাশষ হাজার) টাকা সংগ্রহ করে শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলার চাকধা বাজারে একটি দোকান ভাড়া নেয় এবং সেখানে মোবাইল ফোন সার্ভিসিংয়ের কাজ শুরু করে এখন ধীরে ধীরে মোবাইল ফোন সার্ভিসিংয়ের পাশাপাশি মোবাইলের যন্ত্রাংশও বিক্রি করে মাসে গড়ে ১০,০০০/- (দশ হাজার) টাকা আয় করছে পাশাপাশি যেহেতু সে মাদ্রাসায় পড়াশুনা করছে এজন্য ঐ এলাকার একটি মসজিদে মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব পালন করে মাসে ৬০০০/- (ছয় হাজার) টাকা আয় করে এভাবে সবমিলে মাসে গড়ে ১৬০০০ (ষোল হাজার) টাকা আয় করে সংসারের দায়িত্ব কাধে নিয়েছে এবং বাবা মায়ের দুঃখ দুর্দশা ঘুচিয়েছে।